বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৮ অপরাহ্ন
১২টি অর্জনে ঐতিহাসিক বর্ষপূর্তি উদযাপন করল অন্তর্বর্তী সরকার!
অনলাইন ডেস্ক
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ নিয়ে যাত্রা শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি শুক্রবার (৮ আগস্ট) সেই সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি। এ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, বিগত এক বছরে সরকারের ১২টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে প্রেস সচিব এসব অর্জনের তালিকা প্রকাশ করেন। তার দেওয়া ১২টি সাফল্য হলো—
১. স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা:
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে শান্তি ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে এসেছে। বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসার পথ রুদ্ধ হয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সহিংসতার পথ ছেড়ে জাতিকে ঐক্য ও গণতন্ত্রে ফিরিয়ে এনেছে।
২. অর্থনীতি চাঙ্গা করা:
পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতায় বিধ্বস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে, সাধারণ মুদ্রাস্ফীতি ৮.৪৮ শতাংশ (৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন)। রেকর্ড ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশ, টাকা ডলারের বিপরীতে প্রথমবার শক্তিশালী হয়েছে, ব্যাংক খাতেও স্থিতিশীলতা এসেছে।
৩. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সাফল্য:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল শুল্ক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ (যেমন, হান্ডা গ্রুপের ২৫০ মিলিয়ন ডলার) নিশ্চিত হয়েছে, ২৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ দ্বিগুণ বেড়েছে। চীনের বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
৪. গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ:
একটি সংস্কার কমিশন গঠন করে ৩০টিরও বেশি দলের সম্মতিতে ঐতিহাসিক জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সনদটি ফ্যাসিবাদের পুনঃউত্থানের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দেবে এবং গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
৫. জুলাই গণহত্যার বিচার:
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে। ৪টি বড় মামলার বিচার শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়াধীন।
৬. সুষ্ঠু নির্বাচন প্রস্তুতি:
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রবাসীদের ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোট নিয়ে নাগরিক মতামতের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য ৮ লাখের বেশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
৭. প্রতিষ্ঠান ও আইন সংস্কার:
স্বাধীন বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে সংস্কার-ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের মানবাধিকার ইউনিট, বডিক্যাম, জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ এবং জাতিসংঘের মানদণ্ডের প্রতিবাদ প্রটোকল চালু হয়েছে। সিপিসি ও সিআরপিসি সংস্কার করে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের জানানো, আইনজীবী প্রবেশাধিকার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। অনলাইন জিডি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৮. সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল অধিকার:
দমনমূলক সাইবার আইন বাতিল করে সাংবাদিকদের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সমালোচনার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট ব্যবহারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
৯. পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য আনা:
বাংলাদেশের কূটনীতি একক দেশের ওপর নির্ভর না করে ভারসাম্যপূর্ণ বহুমুখী অংশীদারত্বের পথে এগিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইইউসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে। সার্ককে পুনর্জীবিত করতে এবং আসিয়ানের সদস্যপদ লাভে কৌশল নেওয়া হয়েছে।
১০. প্রবাসী ও শ্রমিক কল্যাণ:
আমিরাতের ভিসা পুনরায় চালু হয়েছে, মালয়েশিয়ায় মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা শুরু হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অনিবন্ধিত শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। জাপানে এক লাখ তরুণ পাঠানোর উদ্যোগ চলছে। ইতালি, কোরিয়া ও সার্বিয়াতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে।
১১. শহীদ ও আহতদের সহায়তা:
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ৭৭৫ শহীদ পরিবারের মাঝে ১০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। ১৩,৮০০ আহত যোদ্ধার মাঝে ১৫৩ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১২. সমুদ্র অর্থনীতি ও অবকাঠামো:
বঙ্গোপসাগরকে ‘ব্লু ইকোনমির’ কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, উপকূলীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে, এবং গভীর সমুদ্রের মৎস্য ও শিল্প প্রকল্পে বৈশ্বিক বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে।